‘বাংলাদেশ ২০২১ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে’–অর্থমন্ত্রী

Admin

অক্টোবর ২০ ২০২১, ১৯:৫৩

‘বাংলাদেশ ২০২১ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে’

যখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ৩ শতাংশের বেশি সংকোচন দেখা যাচ্ছে, সেখানে সময় মতো হস্তক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ২০২০ ও ২০২১ সালে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে- বললেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আজ বুধবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হওয়া জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন (এমপিএফডি) সংক্রান্ত কমিটির তৃতীয় অধিবেশনে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় মন্ত্রী এ বার্তা দেন।

ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের অর্থনৈতিক উইং থেকে পাঠানো এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলামের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী এই অধিবেশনে ইউনেস্কাপের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারির বিশেষ আমন্ত্রণে কি-নোট স্পিকার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

এ কমিটির অধিবেশন প্রতি দু’বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এতে অংশগ্রহণ করেন।

ভিডিও-বার্তার মাধ্যমে উপস্থাপিত মূল বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের উনয়ন অভিযাত্রার অবিস্মরণীয় পথ পরিক্রমার ওপরে আলোকপাত করে বলেন, কোভিড-১৯ আমাদের উন্নয়নের পথে বিশাল চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ তার অর্থনীতিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার পথে অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে।

যখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ৩ শতাংশের বেশি সংকোচন দেখা যাচ্ছে, সেখানে সময় মতো হস্তক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ২০২০ ও ২০২১ সালে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রমাণভিত্তিক নীতি বিশ্লেষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চাহিদাভিত্তিক আঞ্চলিক উপদেষ্টা পরিষেবার মাধ্যমে ইউনেস্কাপ বাংলাদেশকে বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি করতে এবং আঞ্চলিক সংযোগকে গভীর করতে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে সকল স্বার্থসংলিষ্টদের অংশগ্রহণের  মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে সমর্থন এবং বহু অংশীদারিত্ব বিকাশে সহায়তা করবে।

তিনি ইউনেস্কাপের একটি বিষয়ভিত্তিক উপদেষ্টা গোষ্ঠী গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং আশা করেন যে, এটি সদস্য দেশগুলোকে তাদের উপযুক্ত সামষ্টিক-অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করে- এমন সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি-পরামর্শ দিতে সক্ষম হবে।

এ সম্মেলনে মূল কমিটির আলোচনার পাশাপাশি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনা ও সাইড ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে।

থাইল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী মিস্টার আড়খোম টারম্প পিতিয়া আইসিথ, ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী মিসেস শ্রী মুলিয়ানি ইন্দ্রবতী, ভুটানের অর্থমন্ত্রী মিস্টার লিওনপো নামগে শেরিং, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রী এইচ মিস্টার ওমর আইয়ুব খান উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।