পূজা উৎসবে রঙিন তারকারা

Admin

অক্টোবর ১৫ ২০২১, ০৭:১৯

সনাতন ধর্ম অবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবের রঙ লেগে থাকে পূজার দিনগুলোতে। সাধারণ মানুষের মত তারকারাও মেতে উঠেন উৎসবে।

সেনিটাইজার, মুখে মুস্ক ও ছয় ফুটের দূরত্ব বিধি, রাতে প্যান্ডেলে প্রতিমা দেখার নানা বিধিনিষেধ। সবাই বুকে করোনা সংক্রমণের ভয় নিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন। মহামারি করোনার কারণে এবারও উৎসবে দেখা গেছে ভিন্নতা।

বর্ণিল আলোকসজ্জা, মেলা কিংবা আরোহী প্রতিযোগিতা এমন নানা আয়োজনে প্রতি বছর পালিত হয় দুর্গাপূজা। দল বেধে বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে পূজা দেখতে যাওয়ার মাঝে আর্থিক তৃপ্তি খুঁজেন বাঙালী হিন্দুরা। তবে, করোনার প্রকোপে কিছুটা রং হারিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে ধর্মীয় এই উৎসবটি।

প্রতি বছর শোবিজ তারকাদের পূজা ঘিরে নানা আয়োজন থাকলেও অধিকাংশ তারকার এবারও ঘরবন্দি কাটছে দুর্গাপূজা।

অপু বিশ্বাস

মহালয়ার দিন থেকে ছোটবেলায় শুরু হতো আমার উৎসব। ভোরে রেডিওতে মহালয়া শোনার পর চলে যেতাম মন্দিরে। ভাস্কর তখনও প্রতিমায় রঙ করায় ব্যস্ত। দেখতে খুব ভালো লাগত।

পূজায় প্রতিবার কম করে হলেও চারটি ড্রেস কিনতাম। প্রতিদিন এক একটি ড্রেস পরতাম। পরার আগে কেউ যদি আমার ড্রেস দেখে ফেলত তা হলে সেই ড্রেস আর পরতাম না। নতুন আরেকটা কিনে আনতাম। নতুন ড্রেসের সুবাস ছিল আমার খুব প্রিয়। আর এখন ব্যস্ততার কারণে কখন পূজা আসে আর কখন যায় টেরই পাই না। গত বছর থেকে পূজায় মা নেই। সব সময় পূজার সব আয়োজন মা করতেন। তবে, গত বছর থেকে আমাকেই করতে হয়। এই সময়টাতে মাকে খুব মিস করি।

বিদ্যা সিনহা মীম

পূজার সময় নৌকায় বসে বিসর্জন দেওয়া দেখা বেশ উপভোগ করি। শৈশবে পূজায় অনেক মজা করতাম। তবে, লাক্স সুন্দরী হওয়ার পর যখন পরিচিতি পাই তারপর আর সেভাবে পূজা উপভোগ করতে পারি না। শৈশবের সেই দিনগুলো খুব মিস করি। একবার এক দুর্ঘটনার কবলে পরে অল্পের জন্য রক্ষা পাই।

বাপ্পি চৌধুরী

আমি নাচতে খুবই পছন্দ করি। তবে, পূজা এলে এখন আর সেই সুযোগটা হয় না। পূজার এই কদিন মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরছি। ছোটবেলার পূজা অনেক বেশি মজার ছিল। কারণ, আমি নাচতে অনেক ভালোবাসি। পূজা মানে সারা রাত নাচতাম আর সকালে ঘুমাতাম। এখন সেই নাচটা চাইলেও করতে পারি না। সেই সব দিনগুলো খুব মিস করি। প্রতি বছর দশমীর দিন নিজেকে লুকিয়ে পূজা দেখতে বের হই।

চঞ্চল চৌধুরী

যখন পূজাটা উপভোগ করতাম তখন অনেক ছোট ছিলাম। নতুন পোশাকের আনন্দ ছিল। সারা বছর অপেক্ষা করতাম পূজার জন্য, নতুন পোশাক পাব বলে। বারবার দর্জির দোকানে যেতাম। রীতিমত দোকানদারও বিরক্ত হতেন। তারপরও যেতাম কারণ বছরে একবার নতুন পোশাক পাওয়া খুবই আনন্দের বিষয় ছিল। ছোটবেলার পূজা ছিল পোশাককে কেন্দ্র করে। দিনের পরিবর্তনে সেই শৈশব, কৈশোর পার হয়ে এসে এখন আমার সন্তান পূজা উৎসবের দিনগুলোতে আনন্দ করবে। এখন সেই আনন্দ পূরণ করার দায়িত্বটা আমার। এখন নিজের জন্য সেভাবে আনন্দ করা হয় না। ছোটবেলায় এক মাস আগ থেকে অপেক্ষা করতাম পূজার জন্য।

শিপন মিত্র

পূজার আগেই কাজ কমিয়ে দিয়েছি। চেষ্টা করেছি একটু ব্যতিক্রমভাবে এবার পূজার পরিকল্পনা করার। গত চার বছর পূজার আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিলাম। তবে, এবার আর সেই আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করিনি। ছোটবেলায় পূজার উপহার পেতে খুবই ভালো লাগত। দশমীর সময় সালাম করলে বকশিস পেতাম। সেই দিনগুলো খুব মিস করি। অভিনয় আসার পর অন্যরকমভাবে সম্মান পাই। পূজামণ্ডপে গেলে সবাই খুব সম্মান করে।

পূজা চেরি

এক সময় খুলনার গাজীরহাটে নিজেদের বাড়িতে পূজা উদযাপন করতাম। সেখানে বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হতো। গত কয়েক বছর ধরে ঢাকাতেই পূজা করা হয়। এবার তো শুটিংয়ের ব্যস্ততা। তারপরও পূজার জন্য ঢাকায় ফিরেছি। ছোটবেলার পূজার আনন্দটা এখন আর নেই। সেই দিনগুলো খুব মিস করি। আমাদের বাড়ির উঠানে সবচেয়ে বড় মণ্ডপ হতো। মিডিয়ায় কাজ শুরু করার পর থেকে মণ্ডপে গেলে অনেকেই আমাকে চিনে ফেলেন। ছবি তুলতে চান। ব্যাপারটা উপভোগ করি।

ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর

আমার জীবনে আর কোনো দিন পূজা হয়তো বিশেষভাবে আসবে না। কারণ, বাবাকে হাঁরিয়ে ভীষণ একা হয়ে গেছি। এখন পূজা আসলেই মন খারাপ হয়। বাবা মারা যাবার আগে একটি স্মরণীয় স্মৃতি আছে।

মৃত্যুর ছয় দিন আগে আমাকে পাঁচটি শাঁড়ি কিনে দেয়। সবগুলো শাঁড়িই ছিল আমার পছন্দের। যার কারণে পূজার সময়টা আমার জন্য এখন বেশ কষ্টের। এটি চিরজীবনের জন্য।