মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার উপায়

Admin

অক্টোবর ১০ ২০২১, ১৪:৩১

সুস্বাস্থ্য সুস্থতা ও শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য মানসিক প্রশান্তির বিকল্প নেই। মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতায় বিষন্নতামুক্ত থাকা খুবই জরুরি।

জীবনের নানাবিধ বাধাবিপত্তি ও প্রতিকুল পরিস্থিতিতে মানসিক চাপমুক্ত থাকা খুবই কষ্টকর। কিন্তু বিষন্নতা, হতাশা, দুঃশ্চিন্তায় মানসিক চাপমুক্ত থাকতে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকনির্দেশনা ও অনুশাসন খুবই কার্যকর। বিষন্নতামুক্ত জীবনের জন্য ইসলামের দিকনির্দেশনাগুলো কী?

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ। ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’ স্লোগানে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনা বাড়াতে নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ। মানসিক রোগ ও অশান্তি কমাতে ১৯৯২ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

সমস্যাসংকুল পৃথিবীতে মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে সীমাহীন অস্থিরতা ও দুঃচিন্তায়। ফলে কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও এ থেকে মুক্তির আশায় ভুল পথে পা বাড়ায়। জীবন ধ্বংসকারী মাদক ও নেশা জড়িয়ে পড়ে অধিকাংশ জীবন। আর তাতে মুক্তি না পেয়ে জড়িয়ে পড়ে মারাত্মক ক্ষতিকর ও অসামাজিক কাজে। অনেকে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে কেউ না কেউ আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারায়। এসব আত্মহত্যাকারীরা কোনো না কোনোভাবে মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকে। এ থেকে বুঝা যায়, মানসিক সুস্বাস্থ্য ও প্রশান্তি মানুষের কতবেশি জরুরি। কিন্তু এ মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার উপায় কী?

১. চিকিৎসা গ্রহণ

চূড়ান্ত মানসিক অসুস্থতায় প্রথমেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নেওয়ার বিকল্প নেই। ইসলামে প্রচলিত দিনির্দেশনা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা নিষিদ্ধ নয়। তবে উন্মাদনাসহ সব ধরনের মানসিক রোগের ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং ডাক্তারের দেওয়া ঔষধ-পথ্য চালিয়ে যাওয়া।

২. নিয়মিত জিকির করা

জিকির মানুষের অন্তরকে প্রফুল্ল করে তোলে। সব দুঃশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে মুক্ত থাকে মুমিন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

যারা বিশ্বাস করেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়। জেনে রাখ! আল্লাহর স্মরণেই (মানুষের) অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ : আয়াত ২৮)

৩. নিয়মিত কোরআন পড়া

কোরআন তেলাওয়াতে মানুষের মনের স্থির হয়। মানসিক বিষন্নতা কমে যায়। কোরআন মানুষের জন্য মানসিকসহ অনেক রোগের সুচিকিৎসা এবং রহমত। আল্লাহ তাআলা বলেন-

نُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاء وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ وَلاَ يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إَلاَّ خَسَارًا

‘আমি কোরআনে এমন বিষয় নাজিল করেছি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। গোনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ৮২)

৪. নামাজে যত্নবান হওয়া

বিষন্নতা ও অস্থিরতায় সুস্থ থাকতে নামাজে মনোযোগী হওয়া জরুরি। নামাজ মানুষের মনকে স্থির করে দেয়। যাবতীয় মানসিক অস্থিরতা দূর করে দেয়। যার প্রমাণ স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অস্থিরতা দূর করতে নামাজের ভূমিকা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِنَّ الْإِنسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا إِلَّا الْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ

‘নিশ্চয়ই মানুষ ভীরুরূপে সৃজিত হয়েছে। যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে (মনে অস্থিরতা তৈরি হয়)। আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়। তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা নামাজ আদায়কারী। যারা তাদের নামাজে সার্বক্ষণিক কায়েম থাকে।’ (সুরা মাআরিজ : আয়াত ১৮-২৩)

’তোমরা নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আমার সাহায্য প্রার্থনা কর। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৪৫)

হাদিসে এসেছে, وكان –ﷺ– إذا حزبه أمرٌ فزِعَ إلى الصلاة রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন অস্থির হয়ে যেতেন তখন তিনি নামাজে দাড়িয়ে যেতেন।’ (আবু দাউদ)

শুধু তা-ই নয়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতেন, হে বেলাল- أقم الصلاة أرحنا بها নামাজের ইকামত দাও; এর মাধ্যমে আমাকে প্রশান্তি দাও।’ (আবু দাউদ)

৫. ক্ষমা প্রার্থনা করা

মানসিক চাপ সামলাতে ইসতেগফার কার্যকরী আমল। যেসব কারণে মানসিক চাপ বাড়ে, তন্মধ্যে অন্যায়-অপরাধে জড়ানো, অর্থকষ্টে থাকা, সন্তান-সন্তুতি না থাকা, জীবিকার অপ্রতুলতা ইত্যাদি হতাশা। এ সবের সমাধানে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা হলো ইসতেগফার করা। কুরআনে এসেছে-

> ‘অতপর বলেছি- তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইসতেগফার করবে, আল্লাহ তাআলা তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন। তার সব দুঃশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (আবু দাউদ)

৬. দরূদ পড়া

দরূদ পড়লে অন্তরে বিশেষ প্রশান্তি আসে। বান্দার প্রতি আল্লাহর রহমত নাজিল হয। মানসিক প্রশান্তি আসে। হাদিসে এসেছে-

হজরত উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি বললাম- হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার ওপর অনেক বেশি দুরুদ পড়তে চাই। আপনি বলে দেন আমি দুরুদে কতটুকু সময় দেব?

তিনি বললেন- ’তুমি যতটুকু চাও!

আমি বললাম- এক চতুর্থাংশ সময়?

তিনি বললেনতুমি যতটুকু চাও!

যদি আরো বাড়াও তা তোমার জন্যে ভালো।

আমি বললাম- অর্ধেক সময়?

তিনি বললেন- তুমি যতটুকু সময় পড়তে পারযদি এর চেয়ে আরো সময় বাড়াও তোমার জন্যে ভালো। আমি বললাম- তাহলে সময়ের দুই তৃতীয়াংশ?

তিনি বললেন– তুমি যতটুকু চাওযদি আরো বাড়াও তোমার জন্যে ভালো।

আমি বললাম- সম্পূর্ণ সময় আমি আপনার ওপর দুরুদ পড়ায় কাটিয়ে দেব।

তখন তিনি বললেন- তাহলে এখন হতে তোমরা পেরেশানি দূর হওয়ার জন্য দুরুদই যথেষ্ট এবং তোমার পাপের কাফফারার জন্য দুরুদই যথেষ্ট।’ (তিরমিজি)

৭. তাকদিরে বিশ্বাস রাখা

সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ সব কিছুর ক্ষেত্রেই মুমিন বান্দা তাকদিরের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। আর দুঃখ-হতাশা, অভাব-অনটন, বিপদ-আপদ, নিঃসন্তান ইত্যাদি বিষয়ে মানুষ মানসিক চাপে ভোগে। তাই মানসিক চাপের সময় মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে তাকদিরর উপর ছেড়ে দেওয়ায় রয়েছে মানসিক প্রশান্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন-

> ’আল্লাহ তোমাদের কষ্ট দিলে তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা মোচন করতে পারে না। আর আল্লাহ যদি তোমার মঙ্গল চানতাহলে তাঁর অনুগ্রহ পরিবর্তন করারও কেউ নেই।’ (সুরা ইউনুস : আয়াত ১০৭)

> ‘পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপর্যয় আসে আমি ইহা সংঘটিত করার আগেই ইহা লিপিবদ্ধ থাকে; আল্লাহর পক্ষে ইহা খুবই সহজ।’ (সুরা হাদিদ : আয়াত ২২)

৮. হতাশ না হওয়া

হতাশা মানসিক অশান্তি ও চাপের অন্যতম কারণ। তাই দুনিয়ার জীবনে কোনো কাজে হতাশ না হওয়াই ঈমানদারের কাজ। এ বিশ্বাস রাখা- যে কোনো সময় যে কোনো ধরনের বিপদ-আপদ আসতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করবো সামান্য ভয় ও ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফসলের কিছুটা ক্ষতি দিয়ে; আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও- যাদের ওপর কোনো বিপদ এলে বলে, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’- নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর আর অবশ্যই আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৫-১৫৬)

৯. পরকালের কথা স্মরণ রাখা

মৃত্যুর স্মরণ মানসিক চাপ থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়। পরকালের কঠিন পরিস্থিতির কথা স্মরণ রাখলে দুনিয়ায় মানুষ স্বাভাবিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। ফলে মানুষের দ্বারা কোনো অন্যায় কাজ করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। আল্লাহ বলেন-

’যেদিন তারা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করেছে।’ (সুরা নাযিআত : আয়াত ৪৬)

১০. আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা

মানসিক অশান্তি থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা জরুরি। কারণ তিনিই পারেন মানুষকে প্রশান্তি ও মুক্তি দিতে। আল্লাহ বলেন-

> ‘যে মহান আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক : আয়াত ৩)

> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন- আমি সেরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে।’ (বুখারি)

১১. চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া

নিজের চেয়ে অশান্তির চিন্তার চেয়ে অন্য মানুষদের চিন্তা ও কষ্টের দিকে তাকানো। ভাবতে হবে, আল্লাহ আপনাকে তার চেয়ে ভালো রেখেছেন। মনোবিজ্ঞানীরা হতাশা-অস্থিরতা ও মানসিক কষ্টের চিকিৎসা হিসেবে রোগীকে এভাবে চিন্তা করার উপদেশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু বিশ্বনবি হতাশামুক্ত থাকতে কীভাবে হজরত খাব্বাবের চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন?

হজরত খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা এ অবস্থায় আল্লাহর রাসুলের কাছে অভিযোগ করলাম, যখন তিনি কাবা ঘরের ছায়ায় ঠেস দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা বললাম-

আপনি কি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সাহায্য চাইবেন নাআপনি কি আমাদের জন্য দোয়া করবেন না?

জবাবে তিনি বললেন, তোমাদের জানা উচিৎ- তোমাদের আগের মুমিন লোকদের এই অবস্থা ছিল যে, একজন মানুষকে ধরে আনা হতো, তার জন্য গর্ত খুঁড়ে তাকে তার মধ্যে পুঁতে রাখা হতো। এরপর তার মাথার উপর করাত চালিয়ে তাকে দুই খন্ড করে দেওয়া হতো এবং দেহের গোশতের নিচে হাড় পর্যন্ত লোহার চিরুনি চালিয়ে শাস্তি দেওয়া হতো। কিন্তু এই কঠোর পরীক্ষা তাকে তার দ্বীন থেকে ফেরাতে পারতো না।’ (বুখারি)

১২. অভিজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা

যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছে পরামর্শ ও উপদেশ গ্রহণ করা। যিনি মানসিক কথা বললে মানসিক অশান্তি দূর হয় এবং প্রশান্তি আসে। হাদিসে এসেছে-

‘যে ব্যক্তি পরামর্শ কামনা করে সে অকৃতকার্য হয় না।’ (ইবনে হিব্বান)

১২. ধৈর্য ধারণ করা

সব পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করাও বিষন্নতা কমে যাওয়ার উপায়। বিশ্বাস রাখতে হবে যে, কষ্টের পরে সুখ আছে, কঠিন অবস্থার পরে সচ্ছলতা আসে। ধৈর্যধারণকারীদের সঙ্গে আল্লাহ আছেন। আর আল্লাহ যার সঙ্গে আছেন, তার সব চিন্তা দূর হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اسۡتَعِیۡنُوۡا بِالصَّبۡرِ وَ الصَّلٰوۃِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ مَعَ الصّٰبِرِیۡنَ

হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৩)

১৪. নেশা ছেড়ে মধু পান করা

নেশা ছেড়ে নিয়মিত মধু পান করা। ইসলামে মধুকে (মানসিক ও শারীরিক)সব রোগের ওষুধ মনে করা হয়। মধুর প্রাকৃতিক ওষুধি গুণাগুণ শরীরের যাবতীয় বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান বের করে দেয় যা মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য। মধু পানে নবি ঈসা ও আইয়ুব আলাইহিস সালাম বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনেও মধুকে শেফা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৫. রুকইয়া করা

রুকইয়ার পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে, কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নামের জিকির, হাদিসে রাসুল অথবা সালাফে সালেহিন থেকে বর্ণিত দোয়া পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কোনো বিপদ থেকে মুক্তি চাওয়া কিংবা রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করা। কারণ কখনো কখনো শয়তান মানুষের অন্তরকে সবধরনের কল্যাণ থেকে বিমুখ করে রাখে। সুতরাং শয়তানের আনিষ্টতা থেকে মুক্ত থাকতে রুকইয়া কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

১৬. হালাল ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া

অস্বাস্থ্যকর ও হারাম খাবার গ্রহণ না করা। এটি নিশ্চিত যে মানুষের শরীর ও মনে হারাম ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিরূপ প্রক্রিয়া করে। যারা হারাম খেয়ে দিব্যি সুস্থ আছে; কিন্তু তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে জানা যায়, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও তারা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত।

১৭. পরিবারের সান্নিধ্যে থাকা

মানসিক যেকোনো রোগ বা অশান্তিতে পরিবার কাছে থাকা খুবই জরুরি। পারিবারিক সান্নিধ্য মানসিক অশান্তি দূর হওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী সমাধান। পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসা ও সেবায় দ্রুত মানসিক রোগ ও বিষন্নতা দূর হয়। এ কারণে সবসময় প্রিয় মানুষগুলোর মধ্যে থাকার চেষ্টা করা, এতে মনের যাবতীয় ক্ষোভ ও হতাশা দূর হয়ে যাবে। জীবনের সুখ শান্তি ষোল আনাই নির্ভর করে মানসিক প্রশান্তির ওপর।

১৮. ভালো কাজে মনোযোগী হওয়া

ফরজ নামাজ, নফল নামাজ, ফরজ রোজা, নফল রোজা, দান-সাদকা, অন্যের উপকারসহ ভালো কাজে মনোনিবেশ করলেও মানসিক অস্থিরতা ও পেরেশানি কমে যায়।

গবেষণায় এ বিষয়টি প্রমাণিত-

নিয়মিত ধর্মীয় বোধ-বিশ্বাস ও অনুষ্ঠানাদিতে মানসিক দুঃশ্চিন্তা, হতাশা ও উত্তেজনা প্রশমিত হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও মানসিক কষ্ট দূর করতে ধর্মীয় মূল্যবোধগুলোকে দৃঢ়ভাবে লালন করতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কারণ যারা নিয়মিতভাবে ধর্মীয় বিষয়াদিতে মনোযোগী হয় তাদের মানসিক সুস্থতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

আল্লাহ তাআলা মসুলিম উম্মাহসহ সবার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, কর্মক্ষেত্রের সব মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনার মাধ্যমে মানসিক চাপমুক্ত জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।