শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯-২০২১ হলো ‘সাফল্যের যুগ’

Admin

সেপ্টেম্বর ২৮ ২০২১, ১২:৩৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৎ, আন্তরিক ও দূরদর্শী নেতৃত্বে মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা এখন আর স্বপ্ন নয়, কেননা দেশের প্রায় শতভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা তার কিংবদন্তি পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন।

২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করে ২০২১ সালের মধ্যে সকল পরিবারের বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে।

২০০৯ সালে মাত্র ৪৭ শতাংশ থেকে ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে সরকার সফলভাবে তার ভিশন ২০২১ অর্জন করে, যা ২৪ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে। এটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সঙ্গেও মিলে যায়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দৃঢ় ভিত্তি রচনার পর সরকারের পরবর্তী লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালে মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াাট এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশ যখন একটি সমৃদ্ধ উন্নত দেশে পরিণত হতে চায় ততদিনের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞ খন্দকার সালেক সুফি বলেন, ২০০৯  থেকে ২০২১ সাল হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ‘সাফল্যের যুগ’। কেননা এ সময়টাতে তিনি বাংলাদেশের পুরো চেহারা বদলে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, প্রায় শতভাগ পরিবারে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ ও নৈরাজ্য সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং দুর্নীতি দমনে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত ১২ বছরে অর্থনীতি সাত শতাংশের চিত্তাকর্ষক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে।

অনেক বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (পদ্মা বহুমুখী সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মাতারবাড়ী-মহেশখালী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেন্দ্র, পায়রা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেন্দ্র ইত্যাদি) ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তার ৭৫তম জন্মদিনে শুভেচ্ছাও জানান।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৎ, আন্তরিক ও যোগ্য নেতৃত্বে কাজ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে ১৪৬-এ উন্নীত হয়েছে। অথচ ২০০৯ সালে এটি ছিল মাত্র ২৭। উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে (ক্যাপ্টিভসহ) পৌঁছেছে, যা ২০০৯ সালে ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট (ক্যাপ্টিভসহ)।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, আমরা সমস্ত পাওয়ার ক্যাবল এবং সাবস্টেশনকে মাটির নিচে নেয়ার জন্যও কাজ করছি। আমরা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশ ২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের মোট উৎপাদন ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে চাই।

নসরুল হামিদ বলেন, সৌর বিদ্যুৎ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের তুলনায় অনেক ভালো এবং সরকার ছাদে সৌর এবং ভাসমান সৌর প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। এ ছাড়া, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয় করতে নেট মিটারিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে এবং বায়ুশক্তির সাহায্যে আরো বিদ্যুৎ উৎপাদনেরও সুযোগ আছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়ি বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনার মাধ্যমে বাংলাদেশ খুব শিগগির বিদ্যুতের ওপর সম্পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জন করবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ২৮ হাজার ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যা ২০০৮-২০০৯ সালে ছিল মাত্র ২ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা।

ধানমন্ডি এলাকার একজন গ্রাহক এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন বাসসকে বলেন, ২০০৯ সালের আগে তিনি মারাত্মক লোডশেডিংয়ের সম্মুখীন হতেন কিন্তু এখন তিনি চব্বিশ ঘণ্টা নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পাচ্ছেন।

সাজ্জাদ বলেন, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে বিদ্যুৎ খাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ২০০৯-২০২১ সাল দেশের অগ্রগতি ও উন্নতির যুগ, যেমনটি জাতির পিতা বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকার ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে। এটি ছাড়া, বিদ্যুৎ খাত উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশে বর্তমানে ছয়টি উৎপাদন, একটি সঞ্চালন ও পাঁচটি বিতরণ সংস্থা রয়েছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসআরইডিএ) টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের কেন্দ্রীয় সংস্থা। ২০০৯ থেকে এপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভালো মোট দেশীয় উৎপাদন (জিডিপি) অর্জন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা, অবকাঠামো, আইসিটি, যোগাযোগ, রেলওয়েতে যোগাযোগ, স্বাক্ষরতা, সংস্কৃতি, কূটনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভালো পারফরম্যান্সসহ সকল ক্ষেত্রে ভালো পারফর্ম করছেন।

২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর মানবতার জননী শেখ হাসিনা সমুদ্রসীমার রায়ে জিতেন এবং ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেন, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পাঠান, কোস্টগার্ডের জন্য জাহাজ সংগ্রহ করেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য সাবমেরিন, বিজিবি ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জন্য হেলিকপ্টার, বাংলাদেশ বিমানের জন্য এয়ারক্রাফট এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য লোকোমোটিভ, যাত্রীবাহী কোচ, ওয়াগন, অন্যান্য যন্ত্রপাতি, ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার রেসকিউ সরঞ্জাম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের সরঞ্জাম কিনেন।

নসরুল হামিদ যোগ করেন, এখন মন্ত্রণালয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে সকল নাগরিকের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ। সূত্র: বাসস