রিং আইডি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের নতুন পরিচয়

Admin

সেপ্টেম্বর ২০ ২০২১, ১৫:৩৩

রিং আইডি একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যা সামাজিক ব্যবসায়িক মূল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। সেই দৃষ্টিকোন থেকে রিং আইডি একটি সামাজিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ মাধ্যম। যার যাত্র শুরু ২০১৪ সালে। যদিও এর প্রযুক্তিগত গবেষণা ও বিভিন্ন ফিচার নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে এর উদ্যোক্তাগণ কাজ করে যাচ্ছেন।

যার ফলশ্রুতিতে ২০১৪ সালে ম্যাসেজিং, ভয়েসকল, ভিডিওকল ও নিউজফিড (টাইমলাইন) নিয়ে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে যাত্রার শুরু রিং আইডির এবং প্রাথমিক যাত্রাকালেই বিভিন্ন (প্রায় ২৫০টিরও অধিক) অন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রশংসিত হয়, এর মধ্যে ডিজিটাল বাইবেল খ্যাত ফোবস, বাজফেড, ইয়াহু ফাইন্যাস্ন, টেক কো, ডিজিটাল জার্নাল, আই ডিজিটাল টাইমস্, দ্য টেকনিউজ, জুমইট, আর্গাম, আকবারিলিয়াম ও বারসাম উল্ল্যেখযোগ্য, সেখানে বাংলাদেশী একটি প্রতিষ্ঠানের এমন সাহসী ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এটি নিঃসন্দেহে একটি গর্বের বিষয় যে রিং আইডি ডিজিটাল ক্ষেত্রে এমন প্রথম প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান যারা সিক্রেট চ্যাটের মত স্বয়ংক্রিয়-মুছনিয় খুদে বার্তা প্রযুক্তির সঙ্গে নেটিজেনদের পরিচয় করিয়ে দেয় সেই জন্য রিং আইডিকে স্ন্যাপচ্যাটের মত বহুল জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক একটি অ্যাপ থেকেও ব্যবহারকারীবান্ধব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। একইসঙ্গে রিং আইডি বিশ্বে প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যারা ইন্টারেক্টিভ লাইভ ভিডিও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়েদেয় বিশ্বকে।

যাত্রা শুরুর মাত্র দুই বছরেই ১০ লাখ ব্যবহারকারী আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় রিং আইডি এবং গুগল প্লেস্টোরের সর্বোচ্চ ডাউনলোডের শীর্ষ দশের তালিকার প্রথমদিকে স্থান করে নেয়। কালের পরিক্রমায় এবং ক্রমাগত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একে একে বিভিন্ন ব্যবহার উপযোগী ফিচার যুক্ত করে চলেছে রিং আইডি। ২০১৭ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের নিমিত্তে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্র্রপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশিত রুপরেখা বাস্তবায়নের সহযোগী হিসেবে একটি পুর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে পরিণত করা হয় রিং আইডিকে যা প্রতিমুহুর্ত ক্রমবর্ধমান ও নিত্য পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি সন্নিবেশন ঘটিয়ে চলেছে।

যাত্রার শুরু থেকে রিং আইডি একটিই মূল লক্ষ্যখ্যের উপর অটল রয়েছে আর তা হল প্রতিবছর ডিজিটাল মাধ্যমে যেই পরিমান অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাজনিত ও ডিজিটাল ডাটা সুরক্ষাজনিত ক্ষতির সম্মুখীন বাংলাদেশ হচ্ছে তা থেকে পরিত্রাণের মাধ্যমে একটি নিরাপদ দেশ ও উন্নত অর্থনৈতিক অবস্থানে বংলাদেশকে উন্নিতকরন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাবহারকারীদের রিং আইডি ব্যাবহারে উৎসাহীকরণ ও তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অ্যাপ মাইগ্রেশনের মাধ্যমে বর্তমানে ব্যাবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি দেশীয় বিকল্প তৈরি আর তা ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য ব্যবহারকারীগণের অর্থনৈতিক লাভবান হওয়ার বিষটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখেছে রিং আইডি।

যেকোন ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনের মূল লক্ষ্যই থাকে ব্যবহারকারীর যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আকৃষ্ট হয় অ্যাপের প্রতি, আর রিং আইডির অন্যতম লক্ষ্যই যেহেতু ব্যবহারকারীগণের সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি আয়ের সুযোগ তৈরি করে দেয়া তাই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিসেবার সংযোজনের মাধ্যমে রিং আইডি ব্যবহারকারীগণের আয়ের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এর মধ্যে রিং আইডি এজেন্ট, রিং আইডি অ্যাম্বাসেডর এবং রিং আইডি ব্রান্ড প্রোমোটার উল্লেখযোগ্য।

রিং আইডি এজেন্ট : রিং আইডি এজেন্ট হচ্ছেন রিং আইডির স্থানীয় প্রতিনিধি। তিনি যেকোনো গ্রাহক (যারা অ্যাপ ব্যাবহারকারী নন অথবা রিং আইডির অ্যাপ ব্যবহারকারী) এর চাহিদা অনুযায়ী অর্ডারকৃত পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিবেন ও রিং আইডি প্রদত্ত সকল প্রকার সেবা প্রদান করবেন। রিং আইডি এজেন্টের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দামে সবচেয়ে ভাল পণ্য ও সেবা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

রিং আইডি অ্যাম্বাসেডর : যেকোন রিং আইডি ব্যাবহারকারী বিনামূল্যে রিং আইডি অ্যাম্বাসেডর হতে পারবেন। তিনি রিং আইডি ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া যেকোন ব্যবহারকারী রিং আইডি স্টোর থেকে তার পছন্দ অনুযায়ী পণ্য দিয়ে তার ভার্চুয়াল স্টোর তৈরি করতে পারেন এবং ভিডিও লাইভে তা প্রোমোট করতে পারবেন। কোন ব্যবহারকারী যদি তার স্টোর থেকে পণ্য ক্রয় করে তবে স্টোর ওনার বিক্রিত পণ্যের জন্য নির্দিস্ট সেলস্ কমিশন পাবেন। রিং আইডি অ্যাম্বাসেডর মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের ডিজিটাল ক্লাউড প্রোমোশন ও রিং আইডি ব্যবহারকারীগণের বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করাই আমাদের লক্ষ্য।

রিং আইডি ব্রান্ড প্রোমোটার : যেকোন রিং আইডি ব্যবহারকারী ১২ হাজার অথবা ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে রিং আইডি ব্রান্ড প্রোমোটার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন যা তিনি যেকোন সময় চাইলেই বাতিল করতে পারবেন। এটি একটি সামাজিক শ্রমবিক্রি (কমিউনিটি জবস্) প্রক্রিয়া যেখানে ব্রান্ড প্রোমোটারকে রিং আইডি কতৃক প্রদত্ত দায়িত্ব সম্পাদন করতে হবে। কোন ব্রান্ড প্রোমোটার যদি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন তবে তিনি সেচ্ছায় তার আয় থেকে বঞ্চিত হবেন। কমিউনিটি জবসের ধরন সময় ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে। দু’ক্যাটাগরিতেই একটি নির্দিস্ট পরিমান কমিউনিটি জবস্ এর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত আছে যা সম্পাদনের বিপরীতে প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিস্ট পরিমান কমিশন প্রদান করা হয়।

কন্টেন্ট দেখা ও শেয়ার করা, পণ্য বিক্রয়, সেবা বিক্রয় কিংবা অন্যান্য প্রদত্ত কাজের সফল সমাপ্তির বিপরিতে রিং আইডি অ্যাপে ব্রান্ড প্রোমোটারের আলাদা হিসাব সংরক্ষিত রয়েছে। কমার্শিয়াল কন্টেন্ট ছাড়াও যেকোন রাষ্ট্রীয়/সামাজিক প্রচারনার ক্ষেত্রেই এই ব্রান্ড প্রমোটারগণ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম যেমন- রাষ্ট্রীয় জরুরি ঘোষণা, পজেটিভ ও উন্নয়ন বার্তা, গুজব প্রতিহত করা একইসঙ্গে সহিংসতা প্রশমন। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যেই সকল দুস্কৃতিকারী/গুজব রটনাকারী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের নিমিষেই চিহ্নিত করা সম্ভব।

যেহেতু ব্রান্ড প্রমোটার প্রত্যকেই ভেরিফাইড রিং আইডির অধিকারী এবং তারা প্রত্যেকে নিজস্ব সার্কেলের সঙ্গে অন্য সকল নেটওয়ার্কে ( ফেসবুক ) কন্টেন্ট শেয়ার করে তাই তাদের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারকারী চিহ্নিতকরণ সহজেই সম্ভব। প্রতিবছর আমাদের দেশের বিপুল পরিমান অর্থ (২০২১ সালে সম্ভাব্য ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) শুধুমাত্র ডিজিটাল এডের নামে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে, অথচ এড প্রদানকারী ও ভোক্তা দুই আমাদের দেশের নাগরিক কিন্তু আর্থিকভাবে লাভবান

হচ্ছে নব্য ইস্টইন্ডিয়া কম্পানি এভাবে দেশের অর্থ এরা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই অর্থ (ডিজিটাল এড) দেশের সীমানা অতিক্রম করতে না দেয়া এবং সে অর্থ থেকে ভোক্তাকে আংশিক প্রদানপূর্বক স্বদেশী অ্যাপ ব্যাবহারে আগ্রহী করে তোলা ও আয়ের একটা ভিন্ন মাধ্যম তৈরি কারাই রিং আইডির লক্ষ্য।

ভুঁইফোড় ডিজিটাল মোড়কে যৎসামান্য ডিজিটাল জ্ঞান নিয়ে ব্যাঙের ছাতার মত জন্ম নেয়া হাজারো ডটকমের ভিড়ে স্টেট অফ দি আর্ট টেকনোলজির সমন্বয়ে ২ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে রিং আইডি এখন এশিয়ার অন্যতম ডিজিটাল আকর্ষন যা প্রতিমূহুর্ত ছড়িয়ে পড়ছে দেশ ও দেশের বাহিরে। সক্রিয় ও নিয়মিত ব্যবহারকারী যেকোন ডিজিটাল ব্যবসার প্রধান সম্পদ। কারণ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এই সক্রিয় ও নিয়মিত ব্যাবহারকারীগণই ডিজিটাল ব্যবসার মূল্যমান নির্ধারক।

আর তাই রিং আইডি সক্রিয় ও নিয়মিত ব্যাবহারকারী তৈরিতে বদ্ধপরিকর। যার ফলশ্রুতিতে অন্তত চারটি বহুজাতিক কম্পানি ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমানে এবং আগাম বিনিয়োগকারী হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যমান ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে রিং আইডিতে তাদের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে যা চলমান (Due diligence) রয়েছে এবং যার সফল সম্পাদন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখবে।

একইসঙ্গে সেই প্রাপ্তি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে, বিশ্বদরবারে যা বাংলাদেশকে পৌছে দিবে এক অনন্য উচ্চতায়। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের নিমিত্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষকে করবে আরো সুদৃঢ় ও বিশ্বকে জানান দিবে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার। নতুন এই ডিজিটাল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের উপায় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ভাবে ভিন্নতার সঙ্গে উপস্থাপন করবে যা হবে অন্যদেশগুলোর জন্য অনুকরণীয়।